Thomas Campion (১৫৬৭–১৬২০)-
তিনি ইংরেজি রেনেসাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ গীতিকবি ও সুরকার। তাঁর কবিতাগুলি মূলত “Ayres” — লিউট বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে গাওয়ার জন্য লেখা গান।
১. Cherry-Ripe (চেরি-রাইপ)
তার মুখে একটি বাগান আছে,
যেখানে গোলাপ ফোটে, শাপলাও হাসে;
স্বর্গীয় স্বর্গ সেই মধুর স্থান,
যেখানে সব ফল মিষ্টি হয়ে বয়ে যায়।
সেখানে চেরি জন্মে — কেউ কিনতে পারে না,
যতক্ষণ না “চেরি-রাইপ” বলে তারা ডাকে নিজেরা।
ঐ চেরিগুলি ঘিরে রাখে মুক্তার দ্বিগুণ সারি,
প্রাচ্যের মুক্তার মতো দাঁতের সারি;
যখন তার হাসি ফুটে ওঠে,
তারা দেখায় গোলাপের কুঁড়ির মতো তুষার-ভরা।
তবু কোনো রাজা বা ধনী কিনতে পারে না,
যতক্ষণ না “চেরি-রাইপ” বলে তারা ডাকে নিজেরা।
তার চোখ দেবদূতের মতো পাহারা দেয় সবসময়,
ভ্রূ দুটি ধনুকের মতো বাঁকা হয়ে দাঁড়ায়;
ভেদ করা ভ্রূকুটিতে হুমকি দেয় সবাইকে,
যারা চোখ বা হাত বাড়ায় ঐ পবিত্র চেরির দিকে।
কেউ কাছে আসতে পারে না সেই মধুর ফলের,
যতক্ষণ না “চেরি-রাইপ” বলে তারা ডাকে নিজেরা।
২. Rose-cheeked Laura
রোজ-চীকড লরা, এসো এসো,
তোমার সৌন্দর্যের নীরব সঙ্গীতে গাও তুমি মধুর সুরে।
একের সঙ্গে আরেকের মিলিয়ে
সুন্দর করে তুলো সবকিছু।
মধুর রূপ প্রবাহিত হয়
দিব্য সঙ্গতি থেকে তৈরি;
স্বর্গই সঙ্গীত, আর তোমার সৌন্দর্যের জন্ম স্বর্গীয়।
আমরা যে নিস্তেজ সুর গাই,
তাতে বেসুরো দরকার হয় সৌন্দর্য বাড়াতে;
শুধু বিশুদ্ধ ভালোবাসার সৌন্দর্যই
জানে না কোনো বেসুরো।
সে সবসময় আনন্দ ছড়ায়,
স্বচ্ছ ঝরনার মতো প্রবাহিত হয়ে নিজেকে নতুন করে;
চিরকাল নিখুঁত, চিরকাল নিজের মধ্যে অনন্ত।
৩. Follow thy fair sun, unhappy shadow
তোমার সুন্দর সূর্যের পেছনে ছায়া, দুঃখী ছায়া, তুমি অনুসরণ করো!
যদিও তুমি রাতের মতো কালো,
আর সে সম্পূর্ণ আলোয় তৈরি,
তবু অনুসরণ করো তোমার সুন্দর সূর্যকে, দুঃখী ছায়া।
অনুসরণ করো তাকে, যার আলো তোমার আলো কেড়ে নেয়,
যদিও এখানে তুমি অপমানিত হয়ে বেঁচে আছো,
আর সে স্বর্গে স্থাপিত,
তবু অনুসরণ করো তাকে, যার আলো পৃথিবীকে জীবন দেয়।
অনুসরণ করো ঐ বিশুদ্ধ রশ্মিকে, যার সৌন্দর্য পোড়ায়,
যা তোমাকে এতটাই দগ্ধ করেছে
যে তুমি এখনো কালোই থেকে যাবে,
যতক্ষণ না তার দয়ালু রশ্মি তোমার কালোকে আলোয় রূপান্তরিত করে।
৪. When to her lute Corinna sings
যখন করিন্না তার বীণায় গান গায়,
তার কণ্ঠ জাগিয়ে তোলে সীসার তারগুলোকে;
সে উঁচু সুরে ওঠে,
যেন কোনো প্রতিধ্বনি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
কিন্তু যখন সে দুঃখের কথা বলে,
তার দীর্ঘশ্বাসেই তারগুলো ভেঙে যায়।
আর যেমন তার বীণা বাঁচে বা মরে
তার আবেগের নেতৃত্বে, তেমনি আমিও;
যখন সে আনন্দের গান গায়,
আমার চিন্তা হয়ে ওঠে হঠাৎ বসন্তের মতো;
কিন্তু যদি সে দুঃখের কথা বলে,
তবে আমার হৃদয় থেকেই তারগুলো ভেঙে যায়।
৫. I Care Not for These Ladies
আমি চাই না ঐসব ভদ্রমহিলাদের,
যাদের জন্য অনুরোধ-প্রার্থনা করতে হয়;
আমি চাই দয়ালু অ্যামারিলিসকে,
গ্রামের চপল মেয়েটিকে।
প্রকৃতি শিল্পকে অবজ্ঞা করে,
তার সৌন্দর্য নিজেরই।
যখন আমরা তাকে আদর করি আর চুমু খাই,
সে বলে, “সত্যি বলছি, ছাড়ো!”
কিন্তু যখন আমরা স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গায় আসি,
সে কখনো “না” বলে না।
যদি আমি অ্যামারিলিসকে ভালোবাসি,
সে আমাকে ফল আর ফুল দেয়;
কিন্তু যদি আমরা ঐ ভদ্রমহিলাদের ভালোবাসি,
তাহলে সোনার বৃষ্টি দিতে হয়।
তাদের দাও সোনা-মুক্তা, যারা ভালোবাসা বিক্রি করে;
আমাকে দাও ঐ বাদামি-চামড়ার মেয়েটিকে,
যে চুমু খেলে বলে “ছাড়ো!”,
কিন্তু স্বাচ্ছন্দ্যের সময় “না” বলে না।
৬. The Man of Life Upright
যে মানুষ সোজা পথে চলে,
যার নির্দোষ হৃদয় মুক্ত
সব অসৎ কাজ থেকে
আর অহংকারের চিন্তা থেকে;
যে মানুষ নীরব দিন কাটায়
নিরীহ আনন্দে,
যাকে আশা প্রতারিত করতে পারে না,
যাকে দুঃখ অসন্তুষ্ট করতে পারে না;
সেই মানুষের প্রয়োজন নেই উঁচু প্রাসাদের,
নেই বর্মের প্রয়োজন রক্ষার জন্য,
নেই গোপন গুহার প্রয়োজন
বজ্রপাতের হাত থেকে পালাতে।
সে-ই একমাত্র পারে নির্ভয় চোখে দেখতে
সমুদ্রের ভয়াবহতা
আর আকাশের আতঙ্ক।
কারণ যে কখনো সৎ কাজে অপরাধ করেনি,
যে জিভ দিয়ে বা চিন্তায় কখনো শুরু করেনি
বা শেষ করেনি কোনো অন্যায়।
৭. Never Weather-beaten Sail
কখনো ঝড়-বিধ্বস্ত নৌকা তীরে ফিরতে এত আগ্রহী হয়নি,
কখনো ক্লান্ত তীর্থযাত্রীর পা এত ঘুম চায়নি,
যতটা এখন আমার ক্লান্ত আত্মা উড়ে যেতে চায়
আমার উদ্বিগ্ন বুক থেকে বেরিয়ে।
ওহে প্রভু, শীঘ্র এসো, মধুরতম প্রভু,
আর আমার আত্মাকে বিশ্রামে নিয়ে যাও।
৮. My Sweetest Lesbia
আমার মধুরতম লেসবিয়া, চলো আমরা বাঁচি আর ভালোবাসি,
আর যদিও জ্ঞানী লোকেরা আমাদের কাজের নিন্দা করে,
আমরা তাদের কথায় ভারী হবো না।
স্বর্গের বড় বড় প্রদীপ পশ্চিমে ডুবে যায়,
আবার সোজা জেগে ওঠে;
কিন্তু যেই আমাদের ছোট্ট আলো নিভে যাবে,
তখন আমাদের ঘুমোতে হবে এক চিরস্থায়ী রাত।
৯. When Thou Must Home
যখন তোমাকে যেতে হবে ভূগর্ভের ছায়ায়,
আর সেখানে পৌঁছে নতুন প্রশংসিত অতিথি হয়ে,
সুন্দরী আত্মারা তোমাকে ঘিরে ধরবে —
সাদা ইওপে, প্রফুল্ল হেলেন আর বাকিরা —
শোনার জন্য তোমার সমাপ্ত প্রেমের গল্প,
ঐ মসৃণ জিভ থেকে যার সঙ্গীত নরককেও নাচায়।
১০. Never Love Unless You Can
কখনো ভালোবাসো না, যদি না তুমি পারো
সহ্য করতে মানুষের সব দোষ;
মানুষ কখনো ঈর্ষান্বিত হয়,
যদিও সামান্য কারণও দেখে না;
আর মাথা নিচু করে অসন্তুষ্ট হয়,
আর এমন কথা বলে যা সঙ্গে সঙ্গে অনুতপ্ত হয়।
নারীরা যখন ইচ্ছে করে কাঁদতে পারে,
যখন ইচ্ছে হাসতে পারে;
যখন ইচ্ছে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে পারে,
যখন ইচ্ছে ঠাট্টা করতে পারে।
তাই যেহেতু আমাদের প্রেমিক হতেই হবে,
চলো আমরা বিশ্বস্তভাবে ভালোবাসি।
টমাস ক্যাম্পিয়ন (Thomas Campion): ইংরেজি রেনেসাঁর বহুমুখী প্রতিভা
কবি, সুরকার, চিকিৎসক ও সঙ্গীততাত্ত্বিক (১২ ফেব্রুয়ারি ১৫৬৭ – ১ মার্চ ১৬২০)
টমাস ক্যাম্পিয়ন (কখনো ক্যাম্পিয়ান নামেও লেখা হয়) ছিলেন ইংরেজি রেনেসাঁ যুগের সবচেয়ে সূক্ষ্ম ও বহুমুখী প্রতিভাদের একজন। তিনি শুধু কবি ছিলেন না—তিনি ছিলেন অসাধারণ সুরকার, লিউট গানের (lute ayres) অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্রষ্টা, আদালতের মাস্ক নাটকের লেখক, সঙ্গীত তত্ত্বের গ্রন্থকার এবং লন্ডনের একজন সফল চিকিৎসক। তাঁর রচিত একশোরও বেশি গান আজও ইংরেজি গীতিকবিতার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত। তিনি শব্দ ও সুরের অপূর্ব মিল ঘটিয়েছিলেন এবং ক্লাসিক্যাল ঐতিহ্যকে ইংরেজি ভাষায় নতুনভাবে প্রয়োগ করেছিলেন।
শৈশব ও পারিবারিক পটভূমি
টমাস ক্যাম্পিয়ন জন্মগ্রহণ করেন ১২ ফেব্রুয়ারি ১৫৬৭ সালে লন্ডনে। তাঁর পিতা জন ক্যাম্পিয়ন ছিলেন চ্যান্সারি কোর্টের ক্লার্ক এবং মাতা লুসি (জন্মনাম সার্ল) ছিলেন রানির সার্জেন্ট-অ্যাট-আর্মস লরেন্স সার্লের কন্যা। পরিবারটি মধ্যবিত্ত সম্ভ্রান্ত ছিল।
১৫৭৬ সালে মাত্র নয় বছর বয়সে তাঁর পিতার মৃত্যু হয়। এরপর মা লুসি পুনর্বিবাহ করেন অগাস্টিন স্টুয়ার্ডকে। কিন্তু মা শীঘ্রই মারা যান। সৎপিতা অগাস্টিন স্টুয়ার্ড টমাসের দায়িত্ব নেন এবং ১৫৮১ সালে তাঁকে কেমব্রিজের পিটারহাউস কলেজে “জেন্টেলম্যান পেনশনার” হিসেবে পাঠান।
শিক্ষা জীবন
কেমব্রিজে টমাস প্রায় চার বছর অধ্যয়ন করেন (১৫৮১–১৫৮৫), কিন্তু কোনো ডিগ্রি না নিয়েই চলে আসেন। ১৫৮৬ সালে তিনি লন্ডনের গ্রে’স ইন-এ আইন অধ্যয়ন শুরু করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্য ও নাট্যকলার প্রতি গভীর আগ্রহ জন্মায়। তিনি গ্রে’স ইন-এ আয়োজিত নাটক ও মাস্কে অংশ নিতেন। তবে ১৫৯৫ সালের দিকে আইনজীবী হিসেবে ডাক পাওয়ার আগেই তিনি এই পথ ছেড়ে দেন।
১৬০২ সালের দিকে তিনি চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়নের জন্য মহাদেশে যান। ১০ ফেব্রুয়ারি ১৬০৫ সালে ফ্রান্সের কায়েন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি চিকিৎসকের ডিগ্রি (MD) লাভ করেন। এরপর তিনি লন্ডনে ফিরে আসেন এবং সারাজীবন চিকিৎসক হিসেবে অনুশীলন করেন।
প্রথম সাহিত্যকর্ম ও ল্যাটিন কবিতা
ক্যাম্পিয়নের প্রথম পরিচিত রচনা ১৫৯১ সালের। স্যার ফিলিপ সিডনির Astrophil and Stella-এর একটি জলদস্যু সংস্করণে পাঁচটি নামহীন কবিতা যুক্ত করা হয়েছিল, যা পরবর্তীকালে তাঁর বলে প্রমাণিত হয়।
১৫৯৫ সালে তিনি Poemata নামে ল্যাটিন ভাষায় কবিতার সংকলন প্রকাশ করেন। এতে প্যানেজিরিক (প্রশংসাসূচক কবিতা), এলিজি ও এপিগ্রাম ছিল। এই বই তাঁকে তৎকালীন সাহিত্যমহলে যথেষ্ট খ্যাতি এনে দেয়। পরবর্তীকালে ১৬১৯ সালে তিনি এটি সংশোধিত ও সম্প্রসারিত আকারে Epigrammatum Libri II নামে পুনঃপ্রকাশ করেন।
সঙ্গীত ও গানের জগতে অভিষেক
১৬০১ সালে ক্যাম্পিয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা বের হয় — A Booke of Ayres। এতে শব্দ তাঁর নিজের এবং সুর তিনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফিলিপ রোসেটার যৌথভাবে সুর করেছিলেন। এই বইটি ইংরেজি লিউট গানের (ayre) ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এতে সরলতা, সুরের সৌন্দর্য ও শব্দের সঙ্গে সুরের নিখুঁত মিল দেখা যায়।
তাঁর বিখ্যাত কবিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে “Cherry-Ripe” (There is a garden in her face), “Rose-cheeked Laura”, “Follow thy fair sun”, “When to her lute Corinna sings” প্রভৃতি। এগুলো প্রেম, সৌন্দর্য, প্রকৃতি ও মানবিক অনুভূতির সূক্ষ্ম প্রকাশ।
কাব্যতত্ত্ব ও সঙ্গীত তত্ত্ব
১৬০২ সালে ক্যাম্পিয়ন Observations in the Art of English Poesie প্রকাশ করেন। এতে তিনি ইংরেজি কবিতায় ছন্দ (rhyme)-এর বিরোধিতা করে ক্লাসিক্যাল কোয়ান্টিটেটিভ ভার্স (quantitative verse)-এর পক্ষে যুক্তি দেন। তাঁর মতে, ইংরেজি ভাষায় শব্দের দৈর্ঘ্য ও স্বরভেদ অনুসারে ছন্দ তৈরি করা উচিত, যেমন ল্যাটিন ও গ্রিক কবিতায় হতো। এই মতবাদ স্যামুয়েল ড্যানিয়েলের Defence of Rhyme (১৬০৩)-এর সমালোচনার মুখে পড়ে।
১৬১৫ সালে তিনি সঙ্গীত তত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ প্রকাশ করেন — A New Way of Making Fowre Parts in Counterpoint By a Most Familiar and Infallible Rule। এটি দীর্ঘদিন ধরে সঙ্গীতশিক্ষার্থীদের জন্য আদর্শ পাঠ্যবই ছিল এবং জন প্লেফোর্ডের সঙ্গীত গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।
আদালতের মাস্ক ও সৃজনশীলতার শীর্ষকাল
ক্যাম্পিয়ন রাজদরবারের জন্য বেশ কয়েকটি মাস্ক (masque) রচনা করেন। মাস্ক ছিল অভিজাতদের জন্য নৃত্য, সঙ্গীত, পোশাক ও দৃশ্যকলার সমন্বিত বিনোদন।
- ১৬০৭: Lord Hay’s Masque — লর্ড হেয়ের বিয়ের জন্য।
- ১৬১৩: অত্যন্ত উৎপাদনশীল বছর। প্রিন্স হেনরির অকালমৃত্যুতে Songs of Mourning (সুর: জন কোপ্রারিও)।
- প্রিন্সেস এলিজাবেথের বিয়ের জন্য The Lords’ Masque।
- রানি অ্যানের জন্য ক্যাভারশ্যাম হাউসে আয়োজিত বিনোদন।
- আর্ল অব সামারসেট ও ফ্রান্সেস হাওয়ার্ডের বিয়ের জন্য মাস্ক।
এই মাস্কগুলোতে তিনি শব্দ, সুর ও দৃশ্যের অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবন
ক্যাম্পিয়ন কখনো বিবাহ করেননি এবং তাঁর কোনো সন্তান ছিল না। তাঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহযোগী ছিলেন সুরকার ফিলিপ রোসেটার। ১৬০১ সালের A Booke of Ayres-এ তাঁদের যৌথ কাজ দেখা যায়।
মৃত্যুর ঠিক আগে তিনি মৌখিক উইল (nuncupative will) করে সমস্ত সম্পত্তি রোসেটারকে দান করেন এবং বলেন, তাঁর সম্পত্তি আরও বেশি হলে ভালো হতো।
মৃত্যু ও ওভারবারি কাণ্ড
১ মার্চ ১৬২০ সালে লন্ডনে (সম্ভবত প্লেগে) তাঁর মৃত্যু হয়। একই দিনে তাঁকে সেন্ট ডানস্টান-ইন-দ্য-ওয়েস্ট চার্চে সমাহিত করা হয়।
১৬১৫–১৬ সালে স্যার টমাস ওভারবারি হত্যাকাণ্ডে ক্যাম্পিয়ন জড়িয়ে পড়েছিলেন। তিনি অজ্ঞাতসারে একটি ঘুষ পৌঁছে দিয়েছিলেন যা হত্যার সহায়ক হয়েছিল। তবে তদন্তে তাঁকে নির্দোষ প্রমাণিত করা হয় এবং গুরুতর অভিযোগ থেকে রেহাই পান।
উত্তরাধিকার ও পুনরাবিষ্কার
জীবদ্দশায় ক্যাম্পিয়ন যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। কিন্তু পিউরিটান যুগে ধর্মনিরপেক্ষ সঙ্গীত ও মাস্কের প্রতি অনীহা এবং সময়ের পরিবর্তনে তাঁর রচনা প্রায় বিস্মৃত হয়ে যায়।
উনিশ শতকে এ. এইচ. বুলেন ১৮৮৯ সালে তাঁর রচনার সংকলন প্রকাশ করে তাঁকে পুনরায় আবিষ্কার করেন। বিংশ শতাব্দীতে টি. এস. এলিয়ট তাঁকে শেক্সপিয়র ব্যতীত “তাঁর সময়ের সবচেয়ে দক্ষ ছন্দোবদ্ধ গীতিকবি” বলে প্রশংসা করেন।
ক্যাম্পিয়নের গানগুলো সরল অথচ গভীর, সুরের সঙ্গে শব্দের নিখুঁত সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ক্লাসিক্যাল সৌন্দর্যবোধে সমৃদ্ধ। তিনি ইংরেজি গীতিকবিতাকে সঙ্গীতের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত করে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিলেন।
টমাস ক্যাম্পিয়ন ছিলেন সত্যিকারের রেনেসাঁ মানুষ — যিনি কবিতা, সঙ্গীত, নাট্যকলা ও চিকিৎসাশাস্ত্রকে একসঙ্গে ধারণ করেছিলেন। তাঁর রচনায় প্রেমের সূক্ষ্মতা, প্রকৃতির সৌন্দর্য, মানবিক দুর্বলতা ও নৈতিক চেতনার মিলন ঘটেছে। আজও তাঁর গানগুলো গাওয়া হয়, পড়া হয় এবং গবেষণা করা হয়।
তিনি প্রমাণ করেছেন যে, শব্দ ও সুর যখন একত্রিত হয়, তখন তা মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করার ক্ষমতা রাখে — যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অম্লান থেকে যায়।
