বিশ্ব চিঠি লেখা দিবস
চিঠি আসবে জানি আসবে
কলমে: ঘোষ উত্তম
চিঠি আসবেই জানি আসবেই— একদিন ডাকপিয়নের হাতে, ডাকঘরের সিলমোহর লাগানো খামে। চিঠি আসবেই। কারণ চিঠি শুধু কাগজে লেখা কিছু শব্দ নয়, চিঠি হলো হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসা অনুভূতির নাম।
একসময় চিঠির জন্য মানুষ দিনের পর দিন অপেক্ষা করত। ডাকপিয়নের সাইকেলের ঘণ্টা শুনলেই বুকের ভেতর আনন্দের ঢেউ উঠত। দূরদেশে থাকা সন্তানের চিঠি ছিল মায়ের কাছে পরম শান্তি, প্রিয় মানুষের চিঠি ছিল নিঃসঙ্গ হৃদয়ের গোপন আনন্দ। একটি চিঠি হাতে পাওয়া মানেই যেন দূরের মানুষটিকে একটু কাছে পাওয়া।
আজ ডিজিটাল যুগ। মুঠোফোনে মুহূর্তেই পৌঁছে যায় বার্তা, ভিডিও কলে দেখা যায় প্রিয় মুখ। অপেক্ষার সময় কমেছে, কিন্তু অনুভূতির গভীরতা কি কমেছে?
হয়তো চিঠির ব্যবহার কমেছে, কিন্তু চিঠি হারায়নি। কারণ মানুষের কিছু অনুভূতি এখনো ‘সেন্ড’ বাটনে ধরা পড়ে না।
পুরোনো চিঠির হলুদ পাতায় আজও লেগে থাকে হাতের স্পর্শ, ভালোবাসার গন্ধ আর হারানো দিনের স্মৃতি। কিছু চিঠি লেখা হয়, কিন্তু পাঠানো হয় না—থেকে যায় হৃদয়ের গোপন ডায়েরিতে।
তাই বিশ্ব চিঠি দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক—প্রযুক্তির ভিড়েও অনুভূতির এই প্রাচীন শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখব।
একদিন চিঠি আসবেই—যতদিন মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা, অপেক্ষা আর না-বলা কথা থাকবে।