উইলিয়াম ড্রামন্ড অফ হথর্নডেন (William Drummond of Hawthornden, ১৫৮৫–১৬৪৯) স্কটল্যান্ডের রেনেসাঁ যুগের একজন প্রধান কবি। তাঁর কবিতায় প্রেম, প্রকৃতির শোক, মৃত্যুর অনিবার্যতা, আধ্যাত্মিক জাগরণ ও রূপকথার সৌন্দর্য মিশে আছে। তিনি পেট্রার্কীয় সনেট, মাদ্রিগাল ও গীতিকবিতার ধারা অনুসরণ করেছেন।
১. আহ্বান (Invocation / Phoebus, arise!)
মূল শিরোনাম: Invocation (Song)
ফীবাস, উঠো!
আর কালো আকাশকে নীল, সাদা ও লাল রঙে রাঙিয়ে দাও;
মেমননের মাকে টিথনের শয্যা থেকে জাগাও,
যাতে সে তোমার পথ গোলাপে ছড়িয়ে দেয়।
রাতের পাখিরা সর্বত্র তোমার আগমনী গান গায়;
এক চিরন্তন বসন্ত গড়ে তোলো!
এই মৃত অন্ধকার জগতকে প্রাণ দাও।
তোমার সোনালি চুল আগের চেয়ে আরও ঘন করে ছড়িয়ে দাও,
সম্রাটের মতো মুক্তোর মুকুটে তোমার কপাল সাজাও।
তাড়িয়ে দাও এই কুৎসিত রাতকে,
যা শুধু তোমার গৌরবময় আলোকে আরও মধুর করে।
এই সেই সুখের প্রভাত,
যে দিনটির জন্য আমার সারা জীবন অপেক্ষা করেছে—
(যদি নিষ্ঠুর তারা ও ভাগ্য বিশ্বাসঘাতকতা না করে)।
এই দিনটি চিরকালের জন্য হীরক দিয়ে চিহ্নিত হওয়ার যোগ্য।
এই প্রভাতই আমার প্রিয়াকে এই বনে নিয়ে আসবে,
যেন সে আমার প্রেম শুনে ও পুরস্কৃত করে।
হে সুন্দর রাজা, যিনি সব কিছু রক্ষা করেন,
তোমার লজ্জার আলো দেখাও—
তুমি দুটি চোখ দেখবে, পেনিয়াসের তীরের চেয়েও মধুর।
এখন ফ্লোরা, নিজেকে সবচেয়ে সুন্দর সাজে সাজাও।
হে বাতাস, যদি অ্যামফিয়নের বীণার চেয়েও মধুর কণ্ঠ শুনতে চাও,
তোমাদের ঝড় থামাও; শুধু জেফির বইতে দাও
এবং তার চুলের সাথে খেলা করতে দাও।
বাতাস নীরব। ফীবাস তার রথে বসে
সমুদ্র ও আকাশকে জাফরানি রঙে রাঙিয়ে দিচ্ছেন।
প্রতিটি তারা মিলিয়ে যাচ্ছে।
রাত মাতালের মতো পাহাড়ের ওপারে পালাচ্ছে।
মাঠ ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে,
মেঘ নীল আকাশে সোনার ঝলক ছড়াচ্ছে।
এখানে সবকিছু আছে—শুধু সে নেই, যে সবকিছুকে সুন্দর করে।
২. আমি জানি যা কিছু চাঁদের নিচে আছে, সবই ক্ষয় হয় (I know that all beneath the moon decays)
আমি জানি, চাঁদের নিচে যা কিছু আছে সবই ক্ষয় হয়,
মানুষ যা কিছু এই পৃথিবীতে গড়ে তোলে,
সময়ের বড় চক্রে তা শূন্য হয়ে যায়।
সবচেয়ে সুন্দর রাজ্যেরও নির্দিষ্ট রাত ও দিন আছে।
আমি জানি, মিউজের স্বর্গীয় গানগুলোও,
যা আত্মার কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত,
কেউ বা খুব কম লোকই খোঁজে—
আর আকাশী প্রশংসার চেয়ে হালকা আর কিছু নেই।
আমি জানি, ভঙ্গুর সৌন্দর্য বেগুনি ফুলের মতো,
যার জন্ম ও মৃত্যু প্রায়ই একই ভোরে ঘটে।
প্রেম মনের সুরের বিরোধ—
যেখানে ইন্দ্রিয় ও ইচ্ছা যুক্তিকে বন্দি করে।
আমি যা জানি, তা আমাকে নড়ায় না—
কিন্তু হায়! আমাকে লিখতেই হয় এবং ভালোবাসতেই হয়।
৩. বসন্তের শোক ১ (Spring Bereaved 1)
প্রতি বছর যে জেফির এত তাড়াতাড়ি বনের মধ্যে দীর্ঘশ্বাস ফেলে শোনা যায়,
তা তার জন্যই। সবুজ পোশাকে মোড়া তৃণভূমি এত আগে দেখা যায়,
তা তার জন্য। সবচেয়ে দুঃখের মাসেও মেরল পাখি গান গায়,
তা তার জন্য; তার জন্য গাছ মুক্তো ঝরায়।
গর্বিত ও রাজকীয় দরবারগুলো আমাদের এই ছায়া ও শান্ত আশ্রয়কে ঈর্ষা করত,
তা তার জন্য। আর সে চলে গেছে—হায় দুঃখ!
কাটা গাছ আবার গজায়, গোলাপ ও ডেইজি কুঁড়ি ছাড়ে, শীত শেষ হয়;
কিন্তু আমরা একবার মরলে আর সূর্য দেখি না।
৪. বসন্তের শোক ২ (Spring Bereaved 2)
মধুর বসন্ত, তুমি তোমার সুন্দর সেনাবাহিনী নিয়ে এসেছ—
মাথায় আগুনের মুকুট, ফুলে ঝলমলে আঁচল,
জেফির সমতলের সবুজ চুল কুচকুচে করছে,
আনন্দে মেঘ মুক্তোর মতো অশ্রু ঝরাচ্ছে।
মধুর বসন্ত, তুমি এসেছ—কিন্তু হায়! আমার সুখের ঘণ্টা
ও সুখের দিনগুলো তোমার সঙ্গে আর ফিরে আসে না।
শুধু আমার যন্ত্রণার দুঃখজনক স্মৃতি তোমার সঙ্গে আসে,
যা আমার মিষ্টিকে তিক্ত করে দেয়।
তুমি আগের মতোই আছ—সুস্বাদু, প্রাণবন্ত, প্রেমময়, সুন্দর।
কিন্তু সে, যার শ্বাস তোমার স্বাস্থ্যকর বাতাসকে সুগন্ধি করত,
চলে গেছে; সোনা বা মণি-মাণিক্য তাকে ফিরিয়ে আনতে পারে না।
অবহেলিত গুণ, ঋতু আসে-যায়,
যখন তোমার ভুলে যাওয়া স্মৃতি একটি সমাধিতে বন্ধ হয়ে আছে।
৫. বসন্তের শোক ৩ (Spring Bereaved 3)
অ্যালেক্সিস, এখানে সে থেকেছিল; এই পাইন গাছের মাঝে
মধুর সন্ন্যাসিনীর মতো সে একা বিশ্রাম নিত।
এখানে সে তার চুলের ধন ছড়িয়ে দিয়েছিল,
কলকিসের খনি থেকে আনা সোনার চেয়েও সমৃদ্ধ।
সে এই সুগন্ধি বুনোফুলের পাশে বসেছিল—
সেই সুখের জায়গাটি এখনো তার ছাপ বহন করে বলে মনে হয়।
এখানে তার কণ্ঠ তোমার মধুর পঙক্তিগুলোকে আরও মধুর করত,
যার কথা শুনত বাতাস, গাছ, পশু, পাখি।
এখানেই সে প্রথম আমাকে দেখেছিল, এখানেই এক ভোরে
উজ্জ্বল গোলাপি রঙ তার মুখ ছেয়ে ফেলেছিল।
এখানেই সে দীর্ঘশ্বাস ফেলেছিল, এখানেই আমার আশা জন্মেছিল,
এবং আমি প্রথম প্রতিশ্রুত প্রেমের অঙ্গীকার পেয়েছিলাম।
কিন্তু হায়! এত সুখী হওয়ার কী লাভ হলো,
যখন অতীতের সুখ শুধু নতুন দুঃখ দ্বিগুণ করে?
৬. তার চলে যাওয়া (Her Passing)
জীবন ও সৌন্দর্যের সবচেয়ে সুন্দর আদর্শের
সৌন্দর্য ও জীবন—হায় অশ্রু! হায় দুঃখ!—ঝুলছিল একটি দুর্বল সুতোয়,
যাতে ফ্যাকাশে আত্রোপোস তার ছুরি রেখেছিল।
আত্মা অনেক দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে প্রতিটি বাইরের অঙ্গ ত্যাগ করেছিল,
এবং এখন হৃদয়ের সঙ্গে শেষ বিদায় নিচ্ছিল।
মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই বাকি ছিল না, এমনকি মরে যাওয়ার জন্যও।
যখন তার বিছানার চারপাশে দুঃখীজনেরা দেখল
মৃত্যু তার ঠোঁট, গাল, চোখে এত সুন্দর হয়ে এসেছে,
তারা চিৎকার করে উঠল, “হায়! মৃত্যু কি স্বর্গে প্রবেশ করতে পারে?”
৭. পরিবর্তন পরিবর্তনের জন্ম দেয় (Change should breed Change)
নতুন করে সূর্য দেখা দেয়,
পাহাড়ের তুষার গলে যায়,
ভঙ্গুর ফুলে মুকুট পরে শিশু বছর বেরিয়ে আসে।
আমার আত্মা, সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে;
আর তুমি এখনো সেই তুষারে আছ,
যেখানে ফুল ও ফল হারিয়ে গেছে,
যেন এখানে সবকিছু অমর।
লজ্জা! তোমার শক্তি জাগাও,
সেই স্বর্গের দিকে তাকাও যেখানে কখনো রাত হয় না,
এবং সেখানে সেই অমর সূর্যের উজ্জ্বল রশ্মিতে
নিজেকে এমন ফুলে সাজাও যা দিনের রাগকে ভয় পায় না!
৮. মাদ্রিগাল (Madrigal)
ইদালিয়ান রানির মতো,
চুল চোখের চারপাশে ছড়ানো,
গলা ও বুকের পাকা আপেল দেখা যায়,
ভোরের প্রথম আলোয় সাইপ্রাসের বাগানে
সেই সুন্দর ফুলগুলো সংগ্রহ করতে—
যেগুলো তার রক্ত থেকে জন্মেছিল—
আমি দেখেছিলাম, কিন্তু অজ্ঞান হয়ে দেখেছিলাম, আমার প্রেমিকাকে।
গ্রেসরা উলঙ্গ নাচছিল সেই জায়গায়,
বাতাস ও গাছ বিস্ময়ে নীরব হয়ে তাকিয়ে ছিল,
ফুলগুলো হাসছিল, তার মুখের ফুলের মতো।
আর যখন তার আঙুলগুলো কাঁপা কাঁপা ডালপালার মতো বাঁধা ছিল,
যাতে সে আমার অবস্থা পড়তে পারে,
আমি কামনা করেছিলাম—আমি যেন তার হাতে একটি হায়াসিন্থ হতাম।
৯. অনিবার্য (Inexorable)
আমার চিন্তাগুলো মরণশীল সংগ্রামে আবদ্ধ;
আমি আমার জীবনকে ঘৃণা করি,
আর দীর্ঘশ্বাসের কান্নার সঙ্গে
আমার আত্মায় শান্তি আনতে
প্রায়ই সেই রাজপুত্রকে ডাকি যে এখানে রাজত্ব করে।
কিন্তু সে, ভয়ংকর হাস্যময় রাজা,
যে কাপুরুষদের অবজ্ঞা করে এবং ধন্যদের আক্রমণ করে,
সম্প্রতি সৌন্দর্যের গোলাপ দিয়ে তার সমাধি সাজিয়েছে,
একটি আগাছা কাটতে অস্বীকার করে এবং আসবে না।
১০. সেন্ট জন ব্যাপটিস্ট (Saint John Baptist / For the Baptist)
স্বর্গের রাজার শেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ দূত,
খসখসে চামড়ায় বাঁধা, বন্য মরুভূমির দিকে ছুটে চলেছেন।
সেই বন্য জাতির মাঝে, যাদের বন জন্ম দেয়,
তিনি মানুষের চেয়েও নিরীহ ও মৃদু বলে পেয়েছিলেন।
তাঁর খাদ্য ছিল পঙ্গপাল আর কুমারী মৌমাছির চাক থেকে ঝরা মধু।
শুকনো শরীর, ফাঁপা চোখ—কোনো অদ্ভুত সত্তা
তাঁকে পৃথিবী থেকে অনেক আগেই নির্বাসিত বলে মনে হত।
সেখানে তিনি ফেটে পড়লেন: “হে তোমরা সবাই, যাদের আশা ঈশ্বরের ওপর নির্ভর করে,
আমার সঙ্গে এই মরুভূমিতে শোক করো;
অনুতাপ করো, অনুতাপ করো, এবং পুরনো ভুল থেকে ফিরে এসো!”
কে তাঁর কণ্ঠ শুনেছে, তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছে?
শুধু প্রতিধ্বনি, যা তিনি নরম করেছিলেন,
মার্বেল গুহা থেকে প্রতিধ্বনিত হয়ে বলেছিল—
“অনুতাপ করো! অনুতাপ করো!”
উইলিয়াম ড্রামন্ড অফ হথর্নডেন (১৫৮৫–১৬৪৯)
উইলিয়াম ড্রামন্ড, যিনি হথর্নডেনের ড্রামন্ড নামে পরিচিত, সপ্তদশ শতাব্দীর স্কটল্যান্ডের অন্যতম প্রধান কবি এবং গদ্যকার। তিনি ছিলেন জ্যাকোবিয়ান যুগের (Jacobean era) শীর্ষস্থানীয় সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব, যিনি ইংরেজি ভাষায় সচেতনভাবে কবিতা রচনা করেছিলেন। তাঁকে প্রায়শই “স্কটিশ পেট্রার্ক” বলা হয়। তাঁর কবিতায় প্রেম, প্রকৃতি, মৃত্যুর অনিবার্যতা, আধ্যাত্মিক চিন্তা ও রেনেসাঁসের সৌন্দর্যবোধের মিশ্রণ দেখা যায়। স্যার ফিলিপ সিডনি, এডমন্ড স্পেন্সার ও ইতালীয় কবি জাম্বাতিস্তা মারিনোর প্রভাব তাঁর রচনায় স্পষ্ট। তিনি শুধু কবি ছিলেন না, ছিলেন ইতিহাসবিদ, রাজনৈতিক লেখক, গ্রন্থাগারিক ও উদ্ভাবক।
জন্ম, পরিবার ও প্রারম্ভিক জীবন
১৩ ডিসেম্বর ১৫৮৫ সালে মিডলোথিয়ানের হথর্নডেন ক্যাসেলে উইলিয়াম ড্রামন্ড জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা জন ড্রামন্ড ছিলেন হথর্নডেনের প্রথম লেয়ার্ড (laird) এবং স্কটিশ ও পরে ইংরেজ আদালতের জেন্টেলম্যান আশার। মাতা সুসানা ফাউলার ছিলেন কবি ও কোর্টিয়ার উইলিয়াম ফাউলারের বোন। পিতামহ স্যার রবার্ট ড্রামন্ড অফ কারনক ছিলেন স্কটল্যান্ডের ক্রাউনের মাস্টার অফ ওয়ার্ক।
শৈশবে তিনি রাজদরবারের পরিবেশে বড় হন। পিতার চাকরির সুবাদে আদালতের কবি-সাহিত্যিকদের সান্নিধ্য পান। এই পরিবেশ তাঁর সাহিত্যিক রুচি গড়ে তোলে। শৈশবে তিনি কিছু কবিতা ওল্ডার স্কটস ভাষায় লিখেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীকালে ইংরেজিতে লেখেন।
শিক্ষা
প্রাথমিক শিক্ষা এডিনবার্গের রয়্যাল হাই স্কুলে। ১৬০০ সালে এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে (তখন নতুন প্রতিষ্ঠিত) ভর্তি হন। ১৬০৫ সালের জুলাই মাসে এম.এ. ডিগ্রি লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি মানবিক বিষয়, ধ্রুপদী সাহিত্য ও দর্শন অধ্যয়ন করেন। তাঁর পড়ার তালিকা (যা এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত) দেখায় যে তিনি হেলিওডোরাসের Ethiopica সহ কল্পনামূলক সাহিত্য ও সমসাময়িক কবিতার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। ১৭ বছর বয়সে হেলিওডোরাস পড়তে গিয়ে চোখে ব্যথা হয় এবং প্রায় অন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় — এই ঘটনা তাঁর জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য স্মৃতি।
ফ্রান্সে আইন অধ্যয়ন ও পিতৃবিয়োগ
১৬০৬ সালে তিনি ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স ভ্রমণ করেন। প্যারিস দেখার পর বুর্জেস বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন অধ্যয়ন করেন। দুই বছর ফ্রান্সে কাটান। ১৬০৯ সালে স্কটল্যান্ডে ফিরে আসেন। ১৬১০ সালে পিতার মৃত্যু হলে মাত্র ২৪ বছর বয়সে হথর্নডেনের লেয়ার্ড হন। পিতা তাঁকে বাড়ি, জমি ও অর্থ রেখে যান (যদিও ঋণও ছিল)। আইন পেশা ছেড়ে তিনি সাহিত্য ও সংস্কৃতির জীবন বেছে নেন।
সাহিত্যজীবনের সূচনা ও প্রধান রচনাবলি
ড্রামন্ডের প্রথম প্রকাশিত রচনা Teares on the Death of Meliades (১৬১৩; তৃতীয় সংস্করণ ১৬১৪) — প্রিন্স হেনরি (জেমস প্রথমের পুত্র)-এর মৃত্যুতে শোকগাথা। স্পেন্সার ও সিডনির প্যাস্টোরাল প্রভাব স্পষ্ট। একই বছর Mausoleum নামে অন্যান্য কবিদের (চ্যাপম্যান, উইদার প্রমুখ) শোককবিতার সংকলন প্রকাশ করেন।
১৬১৬ সালে তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগ্রন্থ Poems: Amorous, Funerall, Divine, Pastorall: in Sonnets, Songs, Sextains, Madrigals প্রকাশিত হয়। এতে প্রেমের সনেট, শোকগাথা, ধর্মীয় ও প্যাস্টোরাল কবিতা আছে। সিডনি ও ইতালীয় কবিদের (বিশেষ করে মারিনো) প্রত্যক্ষ অনুবাদ ও অভিযোজন দেখা যায়।
১৬১৭ সালে Forth Feasting: A Panegyricke to the King's Most Excellent Majestie — রাজা জেমসের স্কটল্যান্ড সফর উপলক্ষে বীর্যগাথা (heroic couplet)।
১৬২৩ সালে Flowers of Sion (ধর্মীয় কবিতা) প্রকাশিত হয়, সঙ্গে যুক্ত A Cypresse Grove (পূর্ববর্তী সংস্করণ A Midnight’s Trance, ১৬১৯) — মৃত্যু ও পরিবর্তনশীলতা নিয়ে গভীর গদ্য-ধ্যান। এটি তাঁর গদ্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনা:
- Irene (১৬৩৮) — রাজনৈতিক সম্প্রীতির আহ্বান।
- Σκιαμαχία (১৬৪৩) — রাজনৈতিক প্রতিরক্ষামূলক পুস্তিকা।
- History of Scotland during the Reigns of the Five Jameses (মরণোত্তর ১৬৫৫)।
- Polemo-Medinia inter Vitarvam et Nebernam (ম্যাকারোনিক কবিতা, ১৬৮৪ সালে মুদ্রিত, তাঁর বলে আরোপিত) — স্কটস ও লাতিন মিশ্রিত ব্যঙ্গাত্মক রচনা।
তিনি ফরাসি, ইতালীয় ও স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছেন এবং সিডনি, স্পেন্সার, ড্রেটন প্রমুখের অনুকরণ করেছেন। তাঁর শৈলী রক্ষণশীল — মেটাফিজিক্যাল কবিদের (ডন প্রমুখ) চেয়ে ভিন্ন।
সাহিত্যিক সম্পর্ক ও বেন জনসনের সাক্ষাৎ
তিনি স্যার উইলিয়াম আলেকজান্ডার (পরবর্তীতে আর্ল অফ স্টার্লিং)-এর সঙ্গে আজীবন বন্ধুত্ব করেন। ১৬১৮ সাল থেকে মাইকেল ড্রেটনের সঙ্গে ১৩ বছর চিঠিপত্র চালান। সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনা — ১৬১৮-১৯ সালের শীতে বেন জনসন তাঁর হথর্নডেনে দুই সপ্তাহ অতিথি ছিলেন। জনসন ড্রামন্ডের কবিতাকে “too much of the schooles” বলে সমালোচনা করেন এবং ড্রামন্ডকে “too good and simple” বলে বর্ণনা করেন। এই কথোপকথন পরবর্তীকালে প্রকাশিত হয়।
ব্যক্তিগত জীবন ও বিবাহ
১৬৩০ সাল থেকে তিনি স্থায়ীভাবে হথর্নডেনে বাস করেন। ১৬৩২ সালে এলিজাবেথ লোগানকে বিয়ে করেন। তাঁদের পাঁচ ছেলে ও চার মেয়ে হয়। বিবাহের আগে একটি কথিত প্রেমিকার (কানিংহাম অফ বার্নস) মৃত্যুর গল্প আছে, কিন্তু তিনি নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ তারিখের তালিকায় এর উল্লেখ করেননি।
রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থান
তিনি রাজতন্ত্রপন্থী (Royalist) ও এপিস্কোপালিয়ান ছিলেন। প্রেসবিটেরিয়ান ও কভেনান্টারদের বিরোধী। ১৬৩৫ সালে লর্ড বালমেরিনোর বিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। ১৬৩৮ সালে Irene প্রকাশ করেন। ১৬৩৯ সালে নিজেকে রক্ষা করতে কভেন্যান্টে স্বাক্ষর করেন, কিন্তু অস্বস্তি প্রকাশ করেন। গৃহযুদ্ধের সময় রাজপক্ষীয় পুস্তিকা লেখেন, মন্ট্রোজকে সমর্থন করেন। চার্লস প্রথমের মৃত্যুসংবাদে তাঁর স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে।
গ্রন্থাগার, উদ্ভাবন ও অন্যান্য অবদান
তিনি প্রায় ১,৬০০ বই ও পাণ্ডুলিপির বিশাল গ্রন্থাগার গড়ে তোলেন। ১৬২৬ সাল থেকে এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০০-এর বেশি বই দান করেন (শেকসপিয়রের কোয়ার্টো, জনসন, স্পেন্সার, ড্রেটন, সিডনির রচনা সহ)। ১৬২৬ সালে সামরিক যন্ত্রপাতির জন্য ১৬টি পেটেন্ট পান — “আর্কিমিডিসের চশমা” ও প্রাথমিক মেশিনগানের ধারণা সহ। ১৬২৭ সালে সামরিক যন্ত্র নির্মাণের পেটেন্ট।
মৃত্যু
৪ ডিসেম্বর ১৬৪৯ সালে হথর্নডেন ক্যাসেলে ৬৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। লাসওয়েড প্যারিশ চার্চের পাথরের সমাধিতে তাঁকে সমাহিত করা হয়। ১৮৯২ সালে সমাধি সংস্কার করা হয়।
উত্তরাধিকার
ড্রামন্ড এডিনবার্গের স্কট মনুমেন্টে ১৬ জন কবি-সাহিত্যিকের একজন হিসেবে স্থান পেয়েছেন। তাঁর কবিতা সংবেদনশীলতা ও চিন্তার গভীরতার জন্য প্রশংসিত। জেরাল্ড ফিনজি তাঁর তিনটি কবিতায় সংগীত রচনা করেছেন। আধুনিক যুগে তাঁর রচনা পুনর্মূল্যায়িত হচ্ছে। তিনি স্কটিশ সাহিত্যে ইংরেজি ভাষার প্রতিষ্ঠা ও রেনেসাঁস ঐতিহ্যের সেতুবন্ধনকারী হিসেবে স্মরণীয়।
তাঁর রচনাবলি আজ পাবলিক ডোমেইনে রয়েছে। তাঁর সনেট, মাদ্রিগাল ও A Cypresse Grove আজও পাঠকদের মুগ্ধ করে।
প্রধান রচনাসমূহের সংক্ষিপ্ত তালিকা (উপরে বিস্তারিত আলোচিত):
- Teares on the Death of Meliades (১৬১৩)
- Poems (১৬১৬)
- Forth Feasting (১৬১৭)
- Flowers of Sion + A Cypresse Grove (১৬২৩)
- History of Scotland (১৬৫৫, মরণোত্তর)
- রাজনৈতিক পুস্তিকা ও ম্যাকারোনিক কবিতা।
উইলিয়াম ড্রামন্ড অফ হথর্নডেন ছিলেন একজন সংবেদনশীল কবি, গভীর চিন্তাবিদ ও স্কটল্যান্ডের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের রক্ষক। তাঁর জীবন ও রচনা জ্যাকোবিয়ান স্কটল্যান্ডের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক জটিলতার প্রতিফলন।
