চিন্তাদর্শ ও বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ১৯২৬ সালে ঢাকায় গঠিত 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ'-এর অন্যতম সক্রিয় সদস্য ও সম্পাদক ছিলেন তিনি। এই আন্দোলনের মূল সুর ছিল—"বুদ্ধি যেখানে মুক্তি খোঁজে, মানবতা সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়।" তাঁর সাহিত্য ও প্রবন্ধের প্রধান লক্ষ্য ছিল ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা ও সামাজিক অচলায়তনের বিরুদ্ধে যুক্তি ও মুক্তচিন্তার বিকাশ ঘটানো।
উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম
- উপন্যাস: চৌচির (১৯৩৪), প্রদোষে প্রাকৃতজন নয় বরং রাঙ্গা প্রভাত (১৯৫৭), জীবন পথের যাত্রী (১৯৪৮), আলামগীর।
- গল্প ও নাটক: মাটির পৃথিবী, আয়েশা, কায়েদে আজম (নাটক)।
- প্রবন্ধ সংকলন: বিচিত্র চিন্তা, সমকালীন চিন্তা, সমাজ সাহিত্য ও রাষ্ট্র, মানবতন্ত্র।
- আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা: রেখাচিত্র, দুর্দিনের দিনলিপি।
স্বীকৃতি ও পুরস্কার
- বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২)
- প্রেসিডেন্ট প্রাইড অব পারফরম্যান্স (১৯৬৩ - পরবর্তীতে বর্জন করেন)
- নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক (১৯৮০)
- স্বাধীনতা পুরস্কার (২০১২, মরণোত্তর)
সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত
| ক্ষেত্র | বিবরণ |
| জন্ম | ১ জুলাই, ১৯০৩; কেঁওচিয়া গ্রাম, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম |
| পিতা ও মাতা | পিতা মৌলভি ফজলুর রহমান (চট্টগ্রাম জামে মসজিদের ইমাম), মাতা গুলশন আরা |
| শিক্ষা | ঢাকা ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (১৯২৮); কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ (১৯৪০) |
| কর্মজীবন | বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যাপনা; চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (১৯৭৩–১৯৭৫); বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা (১৯৭৫–১৯৭৭) |
| মৃত্যু | ৪ মে, ১৯৮৩; চট্টগ্রাম |
